জলাতঙ্ক ; একজন প্রতিবিপ্লবীর ডাইরি
কুকুর টা ধুঁকছে।
কুকুর টা ধুঁকছে।
আমিও।
অর্ধ চন্দ্রাকার ক্ষতস্থান টা কালচে হয়ে গেছে।
ঠিক কালচে নয় খয়েরি
রঙ টা অবশ্য আমার চেনা।
শৈশব থেকেই কুকুর টা যেন ভাই বোন দের থেকে একটু বেশি সাহসী
আমার দেশে শুকনো রক্তের এই খয়েরি রঙ বহু পরিচিত।
ওষুধ লাগাই নি। প্রতিষেধক
এর তো প্রশ্নই নেই।
একটু বেশি প্রতিবাদী
সব প্রতিবিপ্লবী দের এই কি পরিনতি?
যেন অধিকার বোধের দাম্ভিক প্রকাশ
হাবে ভাবে তীব্র ঔদ্ধত্য । খাবার
পেয়েও চেনা কৃতজ্ঞতার লেজ নাড়ানোর বদলে
ক্লাবের ছেলেগুলো যেদিন বদমায়েসি করে ওর লেজ টা কেটে নিয়েছিলো
ভাবটা এই যে খাবার দিয়ে কি এমন মাথা কিনে নিয়েছ?
ওটা তো আমারি খাবার। আমার
অধিকার।
ইনটারোগেশন রুম এ পুলিস যেদিন নিশীথ এর জিভ কেটে নিয়েছিল
তখন ও যন্ত্রনার বদলে ওর মুখে আমি তীব্র এক ব্যাঙ্গের হাসি দেখেছিলাম
হাসি টা আমার চেনা।
সেদিন ও এভাবে হেসেছিলো।
সুদৃশ্য ইমারতের গায়ে প্রস্রাব রত অবস্থায়
কাঁপা কাঁপা হাতে আমাকে চিঠিতে লিখেছিল "ভালই হল
পুলিশ কে আর আমাদের শেলটার এর ঠিকানা বলতে হবেনা।"
নিভু নিভু আমিত্বে মাঝে মাঝে আকস্মিক অগ্নি সঞ্চার করত ও।
সবাই মেনে নেয়।
কুকুর টা কিন্তু মানেনি।
ওর চোখে ধরা পরেছিল তীব্র অ্যান্টি এসট্যাবলিশমেন্ট এর আগুন।
ওকে দেখে আমার হিংসা হতো।
যেদিন পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানের গোপাল দা ওর গায়ে ফুটন্ত জল ঢেলেছিল
জেল পালিয়ে বিশ বছর ধরে লুকিয়ে থাকতে থাকতে
কুকুরটার জলাতঙ্ক হয়েছে।।
সেদিন সারা রাত চিৎকার করেছিল ও,
কে যেন বলছিল "ইস কুকুর টা কি কাঁদছে।"
কিন্তু আমি জানি ও কাঁদেনি।
"তোমরা নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছ তোমাদের লজ্জা করেনা?"
সারা রাত ধরে ও চিৎকার করে বলছিল
"অনেক দিন তো হল অর্থহীন ভাবে বেঁচে থাকা! আর কদ্দিন?"
সাত দিন ধরে পাগলের মতো রক্তবর্ণ দুটো চোখ
আর কষ বেয়ে গড়িয়ে পড়া নিদারুন আক্রোশ নিয়ে সারা পাড়া দাপিয়ে বেরিয়েছে ও।
সেদিন লোডশেডিঙ এ পথ হাতড়ে যখন বাড়ি ফিরছিলাম
সম্মোহিতের মতো বাড়ি ফিরে দেখলাম।
হটাত পায়ের কাছে দেখলাম জলন্ত দুটো চোখ যেন আমাকে জিজ্ঞেস করলো
হাঁটুর নীচে কয়েকটা রক্তাক্ত ধারাল দাঁতের চিনহ।
""বিপ্লবের উপহার""
আজ কর্পোরেশন এর জমাদার ড্রেন থেকে কুকুরটার লাশ তুলে নিয়ে গেলো।
আমারটা কবে নেবে?
বড্ড অন্ধকার।।
- রঙ্গীত
[[পুনশ্চঃ
লেখা টিতে কোনওভাবেই ধ্বংসাত্মক প্রতিবিপ্লবের প্রতি সমর্থন প্রকাশিত হয়নি।বড়োজোর
তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশিত হয়েছে মাত্র। আর
শব্দের ঝাঁঝ বজায় রাখতে কিছু ইংরাজি শব্দ বাংলা বানানে ব্যাবহার করা হয়েছে]]